পোকা-ইয়োক (Poka Yoke) কি?
পোকা-ইয়োক (Poka Yoke) একটি জাপানী শব্দ যা ভুল
প্রতিরোধের একটি পদ্ধতি বোঝায়। এটি মূলত উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হয়
যাতে ত্রুটি এবং ভুলের সম্ভাবনা কমানো যায়। "পোকা" শব্দের অর্থ হল
"অনিচ্ছাকৃত ভুল" এবং "ইয়োক" শব্দের অর্থ হল "প্রতিরোধ"।
পোকা-ইয়োক পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হল ত্রুটি ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ করা বা ঘটলে
তাৎক্ষণিকভাবে সনাক্ত করা।
পোকা-ইয়োক
পদ্ধতির প্রধান উপাদান
1. প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা: পোকা-ইয়োক পদ্ধতি ভুল ঘটার আগেই
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি
যন্ত্র বা সরঞ্জামে এমন একটি ব্যবস্থা রাখা যাতে ভুলভাবে সেট করা না যায়।
2. ত্রুটি সনাক্তকরণ:
যদি ভুল কোনোভাবে ঘটে, তাহলে পোকা-ইয়োক
পদ্ধতি তাৎক্ষণিকভাবে ত্রুটিটি সনাক্ত করতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, সেন্সর বা এলার্ম ব্যবহার করে।
3. স্বয়ংক্রিয় প্রতিরোধ: অনেক পোকা-ইয়োক পদ্ধতি
স্বয়ংক্রিয়ভাবে ত্রুটি প্রতিরোধ করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, মেশিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে যদি কোনো ভুল কার্যক্রম ঘটে।
পোকা-ইয়োক
পদ্ধতির ব্যবহার
1. উৎপাদন প্রক্রিয়ায়:
উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পোকা-ইয়োক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় যাতে
উৎপাদিত পণ্যে ত্রুটি না থাকে। এতে সময় ও খরচ সাশ্রয় হয় এবং পণ্যের গুণগত মান
উন্নত হয়।
2. পরিষেবা ক্ষেত্রে:
পরিষেবা ক্ষেত্রেও পোকা-ইয়োক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণস্বরূপ, অনলাইন ফর্ম পূরণের সময় ভুল তথ্য দিলে
স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঠিক তথ্য চাওয়া।
3. প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া: প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রক্রিয়াতেও
পোকা-ইয়োক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, হিসাব-নিকাশে
ভুল প্রতিরোধের জন্য স্বয়ংক্রিয় চেকিং সিস্টেম।
পোকা-ইয়োক
পদ্ধতির উদাহরণ
1. ফিজিক্যাল গাইড: একটি নির্দিষ্ট আকার বা রঙের অংশ শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট স্থানে ফিট
হবে, ফলে ভুলভাবে স্থাপন করা সম্ভব নয়।
2. সেন্সর এবং এলার্ম:
কোনো অংশ ভুলভাবে স্থাপন হলে বা প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ঘটলে সেন্সর
এবং এলার্ম ব্যবহার করে ত্রুটির সনাক্তকরণ।
3. কানব্যান সিস্টেম:
এটি একটি সংকেত পদ্ধতি যা নিশ্চিত করে যে সঠিক সময়ে সঠিক
উপকরণগুলি ব্যবহৃত হচ্ছে।
পোকা-ইয়োক
পদ্ধতির উপকারিতা
1. ত্রুটি হ্রাস: পোকা-ইয়োক পদ্ধতি ত্রুটি এবং ভুলের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস
করে।
2. উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি:
প্রক্রিয়া এবং কাজের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা
উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে।
3. গুণগত মান উন্নতি:
ত্রুটি কমানোর মাধ্যমে পণ্যের গুণগত মান উন্নতি হয়।
4. কর্মী সন্তুষ্টি: ভুল কম হওয়ায় কর্মীরা তাদের কাজের জন্য বেশি আত্মবিশ্বাসী হন এবং
সন্তুষ্টি পান।
পোকা-ইয়োক পদ্ধতি একটি শক্তিশালী হাতিয়ার যা উৎপাদন এবং পরিষেবা প্রক্রিয়াগুলিতে ত্রুটি এবং ভুলের সম্ভাবনা কমিয়ে এনে মান উন্নত করতে সহায়ক। এটি প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
