Adon পদ্ধতি: গার্মেন্টস শিল্পে মান উন্নয়ন ও উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধির কার্যকর কৌশল
গার্মেন্টস শিল্পে
প্রতিযোগিতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, এবং এর সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকেই উৎপাদন
দক্ষতা ও মান নিশ্চিত করতে হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে Adon পদ্ধতি একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও মান নিয়ন্ত্রণ
পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। Adon পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো উৎপাদন প্রক্রিয়ায়
নিরবচ্ছিন্নভাবে মানের ত্রুটি শনাক্ত করা এবং তা সমাধান করা, যা উৎপাদন মান উন্নত করতে সহায়ক হয়।
এই পদ্ধতিটি উৎপাদন
পরিবেশে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং এবং ত্রুটি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাজ করে, যা গার্মেন্টস শিল্পে বিশেষভাবে উপযোগী। Adon পদ্ধতির মূল ধারণা, পদ্ধতি এবং এর গুরুত্ব এই ব্লগে বিস্তারিতভাবে আলোচনা
করা হয়েছে।
Adon পদ্ধতি কী?
Adon শব্দটি এসেছে জাপানি শব্দ "andon"
থেকে, যার অর্থ সতর্কবার্তা বা সংকেত। Adon পদ্ধতি মূলত একটি ভিজ্যুয়াল সংকেত পদ্ধতি, যা উৎপাদন প্রক্রিয়ার সময় কোনো সমস্যা, ত্রুটি বা মানের বিচ্যুতি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সতর্ক করে। উৎপাদন ইউনিটে যখন কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তখন অপারেটররা একটি আলো বা সিগন্যালিং ডিভাইস (Adon
light) ব্যবহার করে সতর্কতা
দেন,
যা সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপক বা
প্রকৌশলীদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে।
Adon পদ্ধতির মূল উপাদান
Adon পদ্ধতি
সফলভাবে কার্যকর করার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান প্রয়োজন। এগুলো হলো:
o সবুজ: সবকিছু ঠিকঠাক চলছে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
o হলুদ: প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা বা ত্রুটির সম্ভাবনা বোঝাতে
ব্যবহৃত হয়।
o লাল: জরুরি অবস্থা বা গুরুতর ত্রুটি নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়।
Adon পদ্ধতির কার্যপ্রণালী
১.
সমস্যা শনাক্ত করা
Adon পদ্ধতির
মূল কাজ হলো উৎপাদন প্রক্রিয়ার সময় সমস্যার দ্রুত শনাক্তকরণ। অপারেটর বা মেশিনে
যদি কোনো ত্রুটি ঘটে, তবে
অপারেটররা Adon লাইট
বা সংকেত বোতাম টিপে সমস্যা সম্পর্কে সতর্কতা দেন।
২.
স্বয়ংক্রিয় সংকেত
প্রেরণ
Adon সিস্টেমে
সংযুক্ত সংকেত ডিভাইস বা লাইট উৎপাদন ইউনিটে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এটি
ম্যানেজার বা সুপারভাইজারকে অবহিত করে যে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় কিছু সমস্যা দেখা
দিয়েছে।
৩.
ত্রুটির দ্রুত সমাধান
Adon সংকেত
পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টিম বা সুপারভাইজার দ্রুত সমস্যার সমাধানের জন্য
পদক্ষেপ নেয়। এর মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়ার সময়কাল কমে এবং ত্রুটির প্রভাবও
হ্রাস পায়।
৪.
মানের নিয়ন্ত্রণ
Adon পদ্ধতির
মাধ্যমে মানের ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত এবং সংশোধন করা হয়। এর ফলে পণ্যগুলোর মান
বজায় থাকে এবং সময়মতো সমস্যা সমাধান হওয়ার কারণে উৎপাদনের কার্যকারিতা বাড়ে।
Adon পদ্ধতির সুবিধাসমূহ
গার্মেন্টস শিল্পে
Adon
পদ্ধতির গুরুত্ব
বাংলাদেশের গার্মেন্টস
শিল্পে Adon
পদ্ধতি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে
কারণ এটি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় মানের ত্রুটি ও সমস্যাগুলোকে দ্রুত শনাক্ত করতে
সহায়ক হয়। গার্মেন্টস উৎপাদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং অনেক ধাপের সমন্বয়ে
গঠিত। প্রতিটি ধাপে সামান্য ত্রুটি পুরো প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। Adon পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে এসব ত্রুটি দ্রুত সমাধান করা
সম্ভব হয়, ফলে
উৎপাদন সময় কমে যায় এবং মান নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
Adon পদ্ধতি
গার্মেন্টস শিল্পের উৎপাদনশীলতা ও মান বৃদ্ধির একটি কার্যকর কৌশল। এটি উৎপাদন
প্রক্রিয়ায় ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত ও সমাধান করতে সাহায্য করে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যকারিতা ও মান বজায়
রাখতে পারে। গার্মেন্টস শিল্পে Adon পদ্ধতি আরও বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করা হলে এটি শ্রমিকদের
দক্ষতা বৃদ্ধি, মান
নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদন খরচ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
