চট্টগ্রামে গার্মেন্টস শিল্পে তুলনামূলক ভাবে ঝামেলা কম হয় কেন ?

চট্টগ্রামে গার্মেন্টস শিল্পে তুলনামূলক ভাবে ঝামেলা কম হয় কেন ?

ঢাকায় আমরা এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বার বার কেন ব্যর্থ হই ?
চট্টগ্রামে কোন ষড়যন্ত্রের গন্ধ আমরা খুঁজে বের করতে পারিনা কেন
?

আমাকে চট্টগ্রামের এক বড় কারখানার মালিক ফোন করে পার্মানেন্ট ভাবে চট্টগ্রামে শিফট করতে বলেছেন। তিনি বলছিলেন যে, ঢাকাতে প্রত্যেক বছর অন্তত দুইবার গার্মেন্টস শিল্পে ঝামেলা হচ্ছেই, কিন্তু খেয়াল করে দেখেন আমাদের চট্টগ্রামে কিন্তু কোন ঝামেলা নাই। আমরা কিন্তু সকল সময় কারখানা চালিয়েই যাচ্ছি। সকল প্রতিকূল পরিস্তিতিতে ও আমাদের শ্রমিক কর্মচারীরা কিন্তু কাজ করেই যাচ্ছেন। গত দুই সপ্তাহে ও একটা বিষয় খেয়াল করেছেন নিশ্চয়ই যে, চট্টগ্রামে কিন্তু গার্মেন্টস পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়নি। দুই একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া কোন ধরণের কারখানা বন্ধের ঘটনা ও ঘটেনি। তাহলে ঢাকায় কেন এই পরিস্থিতি সামাল দেয়া গেলনা ?

আমি বিভিন্ন সময় চট্টগ্রামে কাজ করার সুবাদে দেখেছি যে ঢাকা আর চট্টগ্রামের ভিতরে ব্যাপক পার্থক্য হল পরিবেশ পরিস্থিতি, মানসিকতা, নেতৃত্ব, আন্তরিকতা, সমন্বয় ইত্যাদি অনেক কিছুর দারুন একটা সংমিশ্রণ। এটার প্রচন্ড অভাব ঢাকায় অবস্থিত কারখানা কিংবা অঞ্চল গুলোর মধ্যে

আমরা জানি যে চট্টগ্রামের মানুষ জন প্রচন্ড ভাল ব্যবসা বোঝেন। এই পরিস্থিতিটাও এই কথাটার একটা অকাট্য প্রমান। আমরা ৪০ বছরেও অনেকেই ব্যবসাটা ঠিক যেন বুঝে উঠতেই শিখলামনা

চট্টগ্রামে বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত এবং ইপিজেড কেন্দ্রিক প্রায় ৩৫০টি পোশাক কারখানা রয়েছে। এগুলোতে কাজ করছেন প্রায় ৭ লাখ শ্রমিক
কারখানা মলিক, শ্রমিক সংগঠন, শিল্প পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা সকলেই শ্রমিক অসন্তোষের কারণে যাতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সেটি নিশ্চিত করতে সব পক্ষের ইতিবাচক দৃষ্টি ভঙ্গি নিয়ে শুধু কাজ করে যাচ্ছেন। কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক অবস্থা নিশ্চিত করতে বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা ফেলেছেন। যা আমাদের ঢাকায় কেউই কোনদিন করতে পারেন নি

আমাদের ঢাকার নেতৃত্বের বড় একটা অংশ এই সমন্বয়হীনতার জন্য বরাবরই দায়ী ছিলেন। ওনাদের আলোচনা গুলো সকল সময়ই শুধু আলোচনার জন্য আলোচনা বলেই মনে হয়েছে। এর আগে মিটিং গুলো শুধুই সরকার দেখানো ছিল বলে মনে হত

ঢাকা এবং আশুলিয়ার মতো পরিস্থিতি যাতে চট্টগ্রামের গার্মেন্টসগুলোতে সৃষ্টি না হয় সেজন্য শিল্প পুলিশের ৭টি বিশেষ টিম মঠে কাজ করছে। কোনো গার্মেন্টসে শ্রম অসন্তোষ সৃষ্টি হলে তাৎক্ষনিক সাড়া দিচ্ছে এসব টিম। আলাদা ভাবে কাজ করছে ইন্টিলিজেন্স টীম। এছাড়া, অন্যান্য সংস্থা এবং বাহিনীর সদস্যরাও তৎপর রয়েছেন। একটা দুর্যোগ পূর্ণ পরিবেশে সকলেই যেন ঝাঁপিয়ে পড়েছে। যে ব্যাপারটা ঢাকাতে পরিপূর্ণভাবে অনুপস্থিত ছিল

আমরা শুধু সকল কিছুতেই শুধু ষড়যন্ত্র খুজছিলাম, সত্যিই পরিস্থিতি কেন বারবার এমন অশান্ত হয়ে ওঠে এর কোন রুটকজ এনালাইসিস আমাদের নেতৃত্বে আসীন কোন নেতা কিংবা সংগঠন কোনদিন করার প্রয়োজন বোধ করেন নি। আমরা অযথা বারবার ষড়যন্ত্রের কথা বলে সংবাদ সম্মেলনে ছবি তুলতে কেন যেন ভালবাসি !

আপনাদের লাইক পাওয়ার আশায় এই পোস্ট গুলো লিখা হয়না। আপনাদের অংশগ্রহন মূলক পর্যালোচনা, আলোচনা, সমালোচনা আমাদের ইন্ডাস্ট্রিটার অনেকখানি উপকার করবেই। আপনাদের মন্তব্যের আশা করছি

আর নতুন দিনের নতুন সরকারের কাছে একটা দাবি এই অব্যবস্থাপনা গুলো কিভাবে ঢেলে সাজানো যায় তার একটা প্রচেষ্টা যেন আপনাদের প্রায়োরিটি লিস্টে থাকে

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url